SSC Teaching Experience: শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে হাইকোর্টে তীব্র সওয়াল-জবাব, কী বললেন বিচারপতিরা

Published On: November 7, 2025
SSC Teaching Experience: শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে হাইকোর্টে তীব্র সওয়াল-জবাব, কী বললেন বিচারপতিরা

SSC Teaching Experience Marks: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলায় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র সওয়াল-জবাব চলে। Untainted শিক্ষকদের পক্ষ এবং এই নম্বরের বিরোধিতাকারী চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ তাদের নিজ নিজ যুক্তিতে অনড় থাকেন। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে ১২ই নভেম্বর

অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বোঝাতে আইনজীবীর উদাহরণ

শুনানির শুরুতেই Untainted শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী অনিন্দ্য কুমার মিত্র তাঁর যুক্তি পেশ করেন। তিনি বলেন, “একজন ফুটবল খেলোয়াড় যদি ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তবেই সে জাতীয় দলে জায়গা পায়। একইভাবে, শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।”

তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, যারা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন, তারা প্রায়োগিক জ্ঞান ও দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ফ্রেশার প্রার্থীরা বঞ্চিত হবে বলে অভিজ্ঞদের সুযোগ না দেওয়া কি ন্যায্য?” তাঁর দাবি, আবেদনকারীরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ না করে পরীক্ষা দিয়েছেন। তাই এখন এসে অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়।

টেকনিক্যাল যুক্তি ও সুপ্রিম কোর্টের রায়

আইনজীবী পথিক ধর মামলাটিকে টেকনিক্যাল দিক থেকে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের “Null and Void” যুক্তি এখানে প্রযোজ্য নয়। কারণ আদালত ইতিমধ্যেই কিছু শিক্ষককে চাকরিতে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সিনিয়রিটি বজায় রাখতে বলেছে। এই শিক্ষকেরা বহু বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা ফ্রেশারদের নেই।

তিনি আরও বলেন, একাডেমিক যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিজ্ঞতা একজন প্রার্থীকে অনেক বেশি সক্ষম করে তোলে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের পুরনো একটি রায়ের উল্লেখ করে বলেন, “অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে, এটি সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন নয়।”

কমিশনের বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থান

কমিশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য জানান, মামলাকারীরা যথেষ্ট দেরিতে আদালতে এসেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে, তখন এসে ১০ নম্বর নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায্য। তিনি ‘অরুনিমা পাল’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে।

অন্যদিকে, মেনুকা গ্রুপের আইনজীবী যুক্তি দেন যে এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত (Policy Decision) এবং শিক্ষা দপ্তর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিচারবিভাগের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরবর্তী শুনানি ও মামলার গুরুত্ব

সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১২ই নভেম্বর। সেদিন প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আদালতে বক্তব্য রাখবেন।

সব মিলিয়ে, শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর নিয়ে এই মামলাটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মোড়ে পৌঁছেছে। এর রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী, কারণ এই সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিক নির্ধারণ করবে।

Leave a Comment