Primary 32000 Case: পশ্চিমবঙ্গের ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সিবিআই-এর সাম্প্রতিক চার্জশিট নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন, এই চার্জশিট কি পুরো প্যানেলকেই প্রভাবিত করতে পারে। তবে বোর্ডের তথ্য এবং চার্জশিট বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে আসে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বোর্ডের তথ্য
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে জানিয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এপ্রিল ২০১৭-এর মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর পর্ষদ সরাসরি আর কোনো প্যানেল প্রকাশ বা নিয়োগ করেনি। আদালতের নির্দেশে যদি পরে নিয়োগ হয়ে থাকে, তা নিয়ন্ত্রণমূলক ছিল। এই তথ্য মূল ৩২,০০০ নিয়োগের দুর্নীতির সময়কাল বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সিবিআই চার্জশিটে দুর্নীতির বিবরণ
সিবিআই তাদের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। চার্জশিট অনুযায়ী, দুর্নীতির মূল ঘটনা পর্ষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে সংঘটিত হয়েছে।
- অকৃতকার্য প্রার্থীদের নম্বর দান: একটি ফাইল উদ্ধার হয়েছে যেখানে অকৃতকার্য প্রার্থীদের ১ নম্বর করে অতিরিক্ত দেওয়ার অনুমোদন ছিল।
- প্রভাবশালীদের তালিকা: ২৮/০৬/২০২২-এর মেমোতে ৩৪ প্রার্থীর রোল নম্বর এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে।
- ৭৫২ জনের তালিকা: তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর OSD প্রবীর ব্যানার্জীর ইমেল থেকে ৭৫২ অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা পাওয়া যায়, যাদের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল ১১-১৬ মে ২০১৭-এর মধ্যে।
চার্জশিট ও ৩২,০০০ প্যানেলের সম্পর্ক
পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, মূল নিয়োগ প্রক্রিয়া ১৭ এপ্রিল ২০১৭-এ শেষ হয়েছিল। অথচ চার্জশিটে উল্লেখিত দুর্নীতির ঘটনা শুরু হয়েছে ১১ মে ২০১৭ থেকে, যা মূল প্যানেলের প্রায় এক মাস পরে। অর্থাৎ, দুর্নীতিপূর্ণ কার্যকলাপগুলি মূল ৩২,০০০ প্যানেলের অংশ নয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যায়, যারা মূল প্যানেলের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, তাদের এই চার্জশিট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দুর্নীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে, তবে ৩২,০০০ প্যানেলের সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হয়নি।







