SSC Scam: প্যানেলের মেয়াদ শেষ, তবুও নিয়োগ! আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন CBI সাক্ষী

Published On: November 4, 2025
SSC Scam: প্যানেলের মেয়াদ শেষ, তবুও নিয়োগ! আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন CBI সাক্ষী

SSC Scam: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় (SSC Scam Case) একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে সিবিআই-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা রাজ্যের চাকরি দুর্নীতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ওই সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বহু চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র নিয়ে স্কুলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এমনকি, ‘পেন্সিলে নথি লেখা’-র মতো অদ্ভুত এবং সন্দেহজনক প্রক্রিয়ার কথাও উঠে এসেছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।

প্যানেলের মেয়াদ শেষ, তবুও নিয়োগ!

সিবিআই-এর সাক্ষী হিসেবে হাজির ওই আধিকারিক আদালতে জানান যে, প্যানেলের বৈধতা শেষ হওয়ার পরও অনেক চাকরিপ্রার্থী বিভিন্ন স্কুলে নিয়োগপত্র নিয়ে হাজির হচ্ছিলেন।

  • মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল: প্যানেলের মেয়াদ শেষ হলেও প্রার্থীরা স্কুলে নিয়োগপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন।
  • কাজে যোগদানের দাবি: তাঁরা কাজ শুরু করার জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।
  • স্কুলের রিপোর্ট: এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বহু স্কুল থেকে শিক্ষা দফতরের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়।

ওই আধিকারিক আরও জানান, এই ঘটনার ফলে বোঝা গিয়েছিল যে, রাজ্যে একটি সমান্তরাল ও বেআইনি ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে নিয়ম ও প্রক্রিয়ার কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না।

শিক্ষা দফতরে অভিযোগ ও চাপের অভিযোগ

সাক্ষী আদালতে আরও জানান, তিনি এই সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট সিবিআই-কে জমা দিয়েছিলেন এবং একই সঙ্গে তৎকালীন শিক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরও ইমেল করে বিষয়টি জানান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কিন্তু ঘটল উল্টো। ইমেল করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোন করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওএসডি (OSD) প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানতে চান, কেন উচ্চপদস্থদের না জানিয়ে সরাসরি ইমেল করা হয়েছে। সাক্ষীর দাবি, এই ফোন কলটি ছিল স্পষ্টতই চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা, যাতে দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়।

দুর্নীতির গভীরতা ও প্রভাব

এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কেবল কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রশাসনের শীর্ষস্তর পর্যন্ত এর শিকড় পৌঁছেছিল।

  • মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নিয়োগপত্র জারি করা।
  • অভিযোগ জানালে অভিযোগকারীকে ফোন করে চাপ দেওয়া।
  • নথি ‘পেন্সিলে লেখা’ — যা প্রমাণ লোপাটের সুযোগ করে দেয়।

সব মিলিয়ে, এই আধিকারিকের সাক্ষ্য এসএসসি দুর্নীতি মামলার তদন্তে এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এখন নজর থাকবে, এই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্ত কোন পথে এগিয়ে যায়।

— রিপোর্ট: আলিপুর আদালতে সিবিআই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্য

Leave a Comment