SSC Tainted List: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কমিশন শীঘ্রই প্রায় ৩৪০০ ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে। এই পদক্ষেপটি রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে চলমান নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের কাছে পেশ করা বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো নতুন বিতর্ক বা জটিলতা না তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করা।
‘অযোগ্য’ প্রার্থীর সংখ্যা ও বিভাজন
আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের সংখ্যা যথেষ্ট বড়। নিচে গ্রুপ অনুযায়ী প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখ করা হলো:
- গ্রুপ ডি: প্রায় ২৩০০ জন প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- গ্রুপ সি: প্রায় ১১০০ জন প্রার্থীকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, মোট প্রায় ৩৪০০ জন প্রার্থীকে এসএসসি ‘অযোগ্য’ বলে গণ্য করেছে এবং তাঁদের নাম শীঘ্রই প্রকাশ্যে আনা হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসএসসি-র পদক্ষেপ
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ধরনের পদক্ষেপ এসএসসি-এর জন্য নতুন নয়। এর আগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কমিশন একই রকমভাবে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা
অন্যদিকে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এসএসসি সূত্রে জানা গেছে, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বরের শুরুতেই প্রকাশিত হতে পারে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষাগুলি নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার পর কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের সেই উত্তরপত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেয়।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় বার্তা
‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে— নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুল সহ্য করা হবে না। কমিশনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিশ্বাসযোগ্যতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।








